
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমকামিতার পক্ষে প্রচার ও উদ্বুদ্ধকরণের অভিযোগে সিলেটের শাহপরান থানাধীন পূর্ব ভাটপাড়া এলাকার মো. পায়েল আহমদের বাড়িতে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় ইসলামি আন্দোলন ও হেফাজতে ইসলামের নেতা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়, ঘরের দরজা-জানালা ভেঙেচুরে দেয় এবং পরিবারের সদস্যদের নানা ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। হামলার সময় এলাকায় গর্জে ওঠে ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার’ এবং ‘ফাঁসি চাই, মৃত্যুদণ্ড চাই’ স্লোগান।
অভিযুক্ত মো. পায়েল আহমদ দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে বসবাস করছেন। সেখান থেকে তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে সমকামিতার পক্ষে নিয়মিত পোস্ট দিয়ে আসছেন এবং বিভিন্ন কনটেন্টের মাধ্যমে লোকজনকে সমকামিতায় উৎসাহিত করছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ জনতা ও আলেম-উলামাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর আগেও লন্ডনে থাকা তার স্ত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পায়েলের বাড়িতে স্থানীয় লোকজন একাধিকবার চড়াও হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য আরও চাঞ্চল্যকর। পায়েলের ভাই স্থানীয় সূত্রকে বলেন, “আমাদের সাথে আর মো. পায়েল আহমদের কোনো যোগাযোগ নেই। তার এই সমকামী কর্মকাণ্ডের কারণে আমরা সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না। প্রতিনিয়ত হেয়প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে, লোকজন আমাদের দিকে আঙুল তুলে কথা বলে। আমরা তাকে বারবার বুঝিয়েছি, কিন্তু সে কানে তোলেনি। এখন আমাদের পরিবারের সম্মান মাটিতে মিশে গেছে।”
পায়েলের মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার সন্তান এ কী করল! লন্ডনে বসে এসব নোংরা কাজ করে আমাদের পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সমাজে মুখ দেখানোর উপায় নেই। প্রতিদিন লোকজন এসে গালিগালাজ করে, অপমান করে। আমি মা হয়ে কী করে এসব সহ্য করব? আল্লাহ যেন তাকে সুপথে ফিরিয়ে আনেন।”
এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত রয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।











