বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

May 27, 2026 10:18 am
May 27, 2026 10:18 am

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বাড়িতে হামলা ও গভীর রাতে তল্লাশি, আতঙ্কে বৃদ্ধ দম্পতি

কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের নামকরা গ্রামে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তেজনাকে ঘিরে এক বাড়িতে ভাঙচুর, বৃদ্ধ মা–বাবাকে হুমকি এবং পরবর্তীতে গভীর রাতে পুলিশের তল্লাশির ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ ও পাল্টা আইনি প্রক্রিয়ার এই ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির অবস্থা

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাতিসা ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল মতিন, মেম্বার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম, মাহফুজুর রহমান, রাসেল ও লিখনসহ ৫–৭ জন স্থানীয় নেতা–কর্মী তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। তাদের দাবি, সাবেক ঢাকা মহানগর মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা ভাটারা থানার জামায়াতের আমীর মো. আব্দুল কাইয়ুম মজুমদারের পূর্ববর্তী ও বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার জেরেই এই হামলা চালানো হয়। এ সময় ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তছনছ করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার কিছু আলামত তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় বাড়িতে থাকা মো. কাইয়ুমের ৭৫ বছরোর্ধ্ব মা–বাবাকে বাড়ি ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর পিতা মো. ইউনুস মজুমদার বলেন, “আমাদের ভয় দেখানো হয়েছে, বলা হয়েছে বাড়ি ছাড়তে হবে। ঘরের জিনিসপত্র ভেঙে ফেলা হয়েছে।” ঘটনার পর থেকে বৃদ্ধ দম্পতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাদের চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

ভুক্তভোগী (বামে) ও তার পিতা

পরিবারের দাবি, হামলার পর বিষয়টি স্থানীয় থানায় জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং ঘটনার কয়েকদিন পর, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গভীর রাতে পুলিশ উক্ত বাড়িতে তল্লাশি চালায়। পুলিশ জানায়, মো. আব্দুল কাইয়ুম মজুমদারের বিরুদ্ধে তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং চারটি মামলা বিচারাধীন। তাকে না পেয়ে তার বৃদ্ধ মা–বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এর আগেও রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, হামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত যেমন প্রয়োজন, তেমনি আইনি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। এক পক্ষের অভিযোগ ও অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিষয়টি মিলিয়ে ঘটনাটি এখন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে স্থানীয় থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও মেলেনি। ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলার অভিযোগের সত্যতা এবং পরোয়ানা সংক্রান্ত বিষয়—সবকিছু নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *