চলতি বছরের শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত তাপমাত্রা, খরা, দাবানল ও পানির সংকট আরও তীব্রতর হতে পারে। এর ফলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বে প্রায় ৪ লাখ ৫১ হাজার অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকরা বলছেন, স্বাভাবিক বছরের তুলনায় এল নিনোর কারণে অতিরিক্ত গরমের ফলে এই বিপুল সংখ্যক মৃত্যু ঘটতে পারে।
গবেষণায় বিশ্বের ২৪ হাজারের বেশি অঞ্চলের তাপমাত্রা ও মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, চলতি এল নিনোর সময়ে বিশ্বের স্থলভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত গরমের দিন বাড়তে পারে ৪৪ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে দরিদ্র ও উষ্ণ দেশগুলো। আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে অতিরিক্ত প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ মানুষের তাপজনিত প্রাণহানি হতে পারে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৯ হাজার ৩০০, ভারতে ১৫ হাজার ৮০০ এবং ব্রাজিলে ১৩ হাজার ৩০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছে। ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও গবেষণার সহলেখক মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, অতিরিক্ত তাপ বিশেষ করে আগে থেকেই উষ্ণ ও দরিদ্র অঞ্চলের মানুষের জন্য বেশি প্রাণঘাতী। এসব এলাকায় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ পানি ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ তুলনামূলক কম।
গবেষকরা দাবদাহের আগাম সতর্কবার্তা, শীতলীকরণ কেন্দ্র, বিনামূল্যে পানির ব্যবস্থা, হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো এবং বয়স্ক ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা মানুষদের বিশেষ নজরদারির পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো এসব ব্যবস্থা নেয়া গেলে হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব।
তবে এই ৪ লাখ ৫১ হাজারের সংখ্যা নিশ্চিত মৃত্যুর হিসাব নয়; এটি স্বাভাবিক বছরের তুলনায় সম্ভাব্য অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর একটি গবেষণাভিত্তিক পূর্বাভাস।











