বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

June 13, 2026 12:12 am
June 13, 2026 12:12 am

যুক্তরাজ্যে ২ শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় বাংলাদেশি ইমামের সাজা

যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে শাহ মাসুকুর রশিদ নামে এক বাংলাদেশি ইমামের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। ৪৫ বছর বয়সী শাহ মাসুকুর রশিদ গ্লুচেস্টারশায়ারের চেলটেনহাম এলাকার একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। পাশাপাশি তিনি শিশুদের কোরআন শিক্ষাও দিতেন।

ওই এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাহ মাসুকুর রশিদ সেখানে সক্রিয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বেশ পরিচিত মুখ। গত ৪ জুন গ্লুচেস্টার ক্রাউন কোর্ট তাকে এক শিশুকন্যার ওপর দুটি এবং আরেক শিশুকন্যার ওপর চারটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেন। অপরাধগুলো সংঘটিত হয়েছিল ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে, যখন তার বয়স ছিল ৩৭ বছর।

আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, রশিদের অপরাধের বিষয়টি সামনে আসে যখন দুই শিশুকন্যাকে তার সম্পর্কে ‘ক্রিপি’ (ভয়ংকর বা অস্বস্তিকর) মন্তব্য করতে শোনা যায়। পরে তাদের জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জানায়, কোরআন শিক্ষার সময় রশিদ তাদের পোশাকের ওপর ও নিচে স্পর্শ করেছিলেন।

তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি স্বেচ্ছাসেবক কোরআন শিক্ষক হিসেবে নিজের অবস্থান ব্যবহার করে শিশুদের পরিবারগুলোর কাছাকাছি আসার সুযোগ পান। পরে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের নিজ নিজ বাসায় যৌন নিপীড়ন করেন।

ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের আইনজীবী এলিজাবেথ রাশটন বলেন, ‘রশিদ তার কমিউনিটির মানুষের আস্থার অপব্যবহার করেছেন। তিনি জানতেন, ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে কাজ করলে শিশুদের কাছাকাছি যেতে পারবেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি শিশুদের যৌন নিপীড়ন করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি, এই রায় একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে যে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে এবং নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।’

এ ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের কমিউনিটি-পরিচালিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাঠামোগত জবাবদিহি ও শিশু সুরক্ষাবিষয়ক প্রোটোকলের কঠোর বাস্তবায়ন নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে শিশুদের ক্ষেত্রে ‘স্পর্শহীন নীতি’ কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ধর্মীয় নেতারা। জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতারা এখন শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে আপসহীন ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য-সহনশীলতার নীতি অনুসরণের নির্দেশনা দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে লন্ডনের সাউথ উডফোর্ড মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা নজমুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ব্রিটেনে ইমাম হিসেবে কাজ শুরুর আগ থেকেই শিশুদের কোরআন শিক্ষা বা মাদ্রাসায় পড়াচ্ছি। যেখানে আমি প্রথম কাজ শুরু করি, সেই মসজিদ থেকে আমাকে প্রথম নির্দেশনা দেওয়া হয় যে পড়াশোনার উন্নতি, শৃঙ্খলা রক্ষা বা অন্য যে কোনও কারণেই শিশুদের ধমক দেওয়া বা ভয় দেখানো যাবে না। শিশুদের শরীরে স্পর্শ করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। আবেগ বা স্নেহের বশবর্তী হয়েও কখনও শিশুদের শরীরে হাত দেওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমার অনুরোধ, বিষয়টি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার জন্য।’

‘এই মামলার গতিপ্রকৃতি দেশের মুসলিম কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা’, বলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *