বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

October 22, 2026 9:23 am
October 22, 2026 9:23 am

৯২ শিক্ষার্থীর সোয়া ৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ৪ জন রিমান্ডে, আদালত চত্বরে বিক্ষোভ

বিদেশে পাঠানোর নামে শিক্ষার্থীদের সোয়া আট কোটি টাকা আত্মসাতের মামলার আসামিদের হাজির করার পর আদালত চত্বরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ভিড়।

বিদেশে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক ৯২ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় সোয়া আট কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় ‘ভিসা গাইড’ ও ‘জাস্ট থট এডুকেশন কনসালট্যান্ট’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত চার আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এই রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এই প্রতারণার মূলহোতা মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ ওরফে মো. মতিউর রহমান।

এদিকে আজ আসামিদের আদালতে হাজির করার সময় আদালত চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশি হেফাজতে থাকা আসামিদের ওপর হামলার চেষ্টা চালান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল ভূঁইয়া প্রথম আলোকে রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আজ মামলার প্রধান তিন আসামি মতিউর রহমান, রাবেয়া খাতুন তানিয়া ও সাইদুর রহমানকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

একই মামলায় অপর আসামি তানজির ইসলামকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম।

এ মামলার এজহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি এবং ভিসা গাইডের পরিচালক মাশায়ের রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে পুলিশ। তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. কামাল প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালত চত্বরে বিক্ষোভ

আজ আসামিদের আদালতে হাজির করার সময় আদালত চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশি হেফাজতে থাকা আসামিদের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। এ সময় পুলিশ বাধা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয় এবং হাজতখানার ফটক বন্ধ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের ওপর হামলা বা আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আসামিদের দেখে হইচই শুরু করে হাজতখানার ফটকের দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশ তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে দেয়।

যেভাবে চলে প্রতারণা

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ‘ভিসা গাইড’ ও ‘জাস্ট থট এডুকেশন কনসালট্যান্ট’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান স্টুডেন্ট ভিসার মাধ্যমে চার মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তারা কাউকেই বিদেশে পাঠায়নি।

প্রতিষ্ঠান দুটি বিভিন্ন সময়ে ৯২ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোট ৮ কোটি ৩৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। শিক্ষার্থীরা পরে খোঁজ নিতে গেলে তাঁদের স্টুডেন্ট ও ফ্যামিলি ভিসা প্রসেসিংয়ের নানা আশ্বাস দিয়ে ঘোরানো হতে থাকে। একপর্যায়ে টাকা ফেরত না দিয়ে তারা পুরো অর্থ আত্মসাৎ করেন।

৮ জুলাই ভুক্তভোগীদের পক্ষে আল-আমিন বাদী হয়ে ভাটারা থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুনানি শেষে বাদীপক্ষের আইনজীবী এইচ এম রুহুল আমিন মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, আসামিদের প্রতারণার কারণে অনেক শিক্ষার্থীর বিদেশে গিয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার স্বপ্ন ভেঙে গেছে। শিক্ষার্থীরা বিপুল পরিমাণ অর্থ দিলেও তাঁদের বিদেশে পাঠানো হয়নি, এমনকি টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *