যুক্তরাজ্যে একটি সংঘবদ্ধ শিশু যৌন নিপীড়ক ও গ্রুমিং গ্যাংয়ের আটজন সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। ভয়ংকর এই অপরাধী চক্রের অভিযুক্ত আট সদস্যের মধ্যে তিনজনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। দীর্ঘদিন তদন্তের পর এই চক্রের সন্ধান মেলায় দেশটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) এই আটজনের বিরুদ্ধে মোট ৩৪টি অভিযোগ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ১৭টি অভিযোগই ধর্ষণের।
‘অপারেশন ওক’ নামে পরিচিত দীর্ঘমেয়াদি তদন্তের অংশ হিসেবে একাধিক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে এ মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা শৈশব ও কৈশোরে এই চক্রের হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন। অভিযুক্তরা অপরাধের সময় নিজেরাও অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে সংঘটিত এসব ঘটনার তদন্ত করছে গোয়েন্ট পুলিশ।
ল্যাঙ্কাশায়ারের স্থানীয় পত্রিকা ল্যাঙ্কসলাইভের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৪ জুলাই ল্যাঙ্কাশায়ার, নিউপোর্ট, সোয়ানসি, লন্ডন, বার্মিংহাম, এডিনবরা এবং স্কটল্যান্ডের আর্গিল ও বুট এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের জামিন দেওয়া হয় এবং আগামী ২৪ জুলাই নিউপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হওয়ার শর্ত দেওয়া হয়।
গোয়েন্ট পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আটজনই ব্রিটিশ নাগরিক এবং তাদের বয়স ৫৪ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিনজন ৫৪ বছর বয়সী মোহাম্মদ শেখ আব্দুল হান্নান, ৭৩ বছর বয়সী শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহ এবং ৫৮ বছর বয়সী আমিনুর রহমান চৌধুরী।
হান্নানের বিরুদ্ধে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীকে দু’বার ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণে তিনবার সহায়তা ও উসকানি এবং ধর্ষণের জন্য দু’বার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তাহির উল্লাহর বিরুদ্ধে এক নারী ও এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ এবং আমিনুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।
বাকি পাঁচ আসামি: শাকিল বাবর, শফাক আহমেদ, আশান তাকভি, মুরাদ আলী ও কেভিন লরেন্স। কেভিন ছাড়া বাকি চারজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত।
শাকিল বাবরের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে চারবার যৌন নির্যাতন, শফাক আহমেদের বিরুদ্ধে এক নারী ও কিশোরীকে সাতবার ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং যৌন পেশায় বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। আশান তাকভির বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে তিনবার ধর্ষণ এবং মুরাদ আলীর বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে দু’বার ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। কেভিন লরেন্সের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ষড়যন্ত্র ও যৌন পেশায় বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে এ ধরনের ‘গ্রুমিং গ্যাং’ নিয়ে আগেও ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এর আগে ব্রিটিশ এমপি রুপার্ট লো পার্লামেন্টে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। সরকারি তথ্য অনুসারে, গত এক দশকে এসব চক্রের হাতে আড়াই লাখের বেশি ব্রিটিশ তরুণী ও শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গোয়েন্ট পুলিশের ডিটেক্টিভ চিফ সুপারিনটেনডেন্ট অ্যান্ড্রু টুর্ক বলেন, অপারেশন ওক সাউথ ওয়েলসে দলবদ্ধ শিশু যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত। সিপিএসের সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি। ভুক্তভোগীদের সহায়তা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের তদন্ত সমাজে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে, তবে ভুক্তভোগীদের স্বার্থে তদন্ত অব্যাহত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কোনো পোস্ট না করার আহ্বান জানিয়েছেন যা আদালতের কাজে প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা











