শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচনপূর্ব সহিংসতায় হতাহতের ঘটনায় সহস্রাধিক জামায়াত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সম্প্রতি ঝিনাইগাতী উপজেলার শালচুড়া গ্রামের বিএনপি কর্মী আমজাদ হোসেন ও ভারুয়া গ্রামের হাসিবুল হাসান শান্ত বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী আমলী আদালতে পৃথক দুটি মামলা করেন।
মামলায় শ্রীবরদী উপজেলার পশ্চিম তাতীহাটি এলাকার মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে উপজেলা জামায়াতে সেক্রেটারি আজহারুল ইসলাম মিস্টারকে (৫০) প্রধান আসামি করা হয়। দুটি মামলায় মোট ২৪৪ জনকে স্বনামে এবং ৬০০ থেকে ৮০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভুঞাঁ সাংবাদিকদের জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালত থেকে ঝিনাইগাতি থানাকে মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইগাতী সিআর আমলি আদালতে সিআর-৬১ ও সিআর-৬২ নম্বরে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৮ জানুয়ারি ঝিনাইগাতীতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দু’দফায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীকে আহত করেছেন।
মামলা দুটি ২৪৪ জনের নামোল্লেখ করে আরও ৬০০ থেকে ৮০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এর আগে ওই সংঘর্ষের ঘটনার জেরে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহতের ঘটনায় স্ত্রী মারজিয়া বেগম বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও শ্রীবরদী-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়াও শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ২৩১ জন নেতাকর্মীকে স্বনামে এবং ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।











