রাজনীতির উত্থান-পতন, মামলা-সংকট ও দীর্ঘ প্রবাসজীবন অতিক্রম করে আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তির পর দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করা এই প্রবীণ রাজনীতিক এবার নতুন মন্ত্রিসভায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। তার নিয়োগকে ঘিরে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনসহ জেলাজুড়ে সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত। গ্রেনেড হামলা মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর এক যুগেরও বেশি সময় তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর দেশে ফিরে আসেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মুরাদনগর আসনে অংশ নেন।
নির্বাচনে তিনি এক লাখ ৫৯ হাজার ২৫১ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে অর্ধ লাখেরও বেশি ভোটে জয়ী হন। ফল ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় সমর্থকদের উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, কায়কোবাদকে তারা ‘মাটি ও মানুষের নেতা’ হিসেবেই দেখেন। উপজেলা সদর থেকে শুরু করে বিভিন্ন গ্রামে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি ছয়বারের সংসদ সদস্য। এর আগে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৬ সালে সংসদের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়াকে তার রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সমর্থকদের ভাষ্য, অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। তবে সমালোচকদের একটি অংশ অতীতের আইনি প্রেক্ষাপট ও বিতর্কের বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে বিতর্ক, প্রত্যাবর্তন ও দায়িত্বপ্রাপ্তি—এই তিন অধ্যায়ের সমন্বয়ে কায়কোবাদ এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচনায়।










