বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

June 13, 2026 12:07 am
June 13, 2026 12:07 am

বাজেট অবাস্তবায়নযোগ্য, উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক: জামায়াত

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ‘অবাস্তবায়নযোগ্য, উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক’ আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটির দাবি, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জনবান্ধব, সুপরিকল্পিত ও বাস্তবায়নযোগ্য বাজেটের পরিবর্তে সরকার এমন একটি বাজেট দিয়েছে, যা ঋণনির্ভর, বাস্তবতা-বিবর্জিত এবং শেষ পর্যন্ত দুর্নীতি ও লুটপাটকে উৎসাহিত করবে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে বাজেটের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে এসব কথা বলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, ‘এই বাজেটের প্রধান দুর্বলতা হচ্ছে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেট। একইসঙ্গে এটি বিরাট ঋণনির্ভর বাজেট। বিশেষ করে ব্যাংক ঋণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হওয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাবে, কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হবে এবং অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরওয়ার বলেন, সরকার ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের কথা বললেও তা অর্জনের বাস্তবসম্মত কোনো পরিকল্পনা নেই। ‘কর প্রশাসনে দুর্নীতি ও অদক্ষতা দূর না করে কেবল করের জাল বিস্তৃত করে এত বড় রাজস্ব আহরণ সম্ভব নয়,’ বলেন তিনি।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর সঙ্গে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা যুক্ত হওয়ায় বাজেট বাস্তবায়ন ও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সরকারের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে ‘অবাস্তব’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫ শতাংশের নিচে রেখেছে। সেখানে সরকার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এটি একটি ফাঁপানো ও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য। ভেতরে এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।’

পরওয়ার বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নের প্রতিফলন এ বাজেটে নেই। ‘বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার কোনো রূপরেখাও এই বাজেটে পরিলক্ষিত হয়নি।’

তার অভিযোগ, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ৩ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত করার মাধ্যমে দুর্নীতি ও লুটপাটের সুযোগ আরও বাড়ানো হয়েছে।

‘এডিপির নামে দুর্নীতি ও লুটপাটের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। অতীতের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে জনগণের অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা রয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

কর ব্যবস্থার সমালোচনা করে এই জামায়াত নেতা বলেন, ন্যূনতম ব্যক্তিগত করহার ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করায় নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে এলপিজির ওপর ভ্যাট ও শিল্পের কাঁচামালের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।

এই বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই বাজেট প্রণয়নে কোনো ধরনের হঠকারিতা জনগণ মেনে নেবে না। তাই অতিসত্বর অবাস্তবায়নযোগ্য, উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক এই বাজেট সংশোধন করে বিনিয়োগবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক বাজেট প্রণয়নের জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।’

জামায়াত প্রস্তাবিত ছায়া বাজেটের সঙ্গে তুলনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, তাদের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছিল ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা, যা সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় কম ঘাটতি ও কম ঋণনির্ভর।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ছায়া বাজেট জনকল্যাণমুখী ও সংস্কারভিত্তিক। সরকারের বাজেটের তুলনায় এটি বেশি বাস্তবসম্মত এবং দেশের অর্থনীতির জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *