বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

January 16, 2026 1:08 am
January 16, 2026 1:08 am

সমকামিতা ও মানবাধিকার: ঘৃণার বিরুদ্ধে এক দৃঢ় ঘোষণা

Alomgir Samsul Hoque

মানুষের জন্মগত পরিচয়, তার যৌন প্রবৃত্তি কিংবা লিঙ্গ পরিচয়—এসব কিছুই কোনো ব্যক্তির মানবিক মর্যাদাকে কমিয়ে দিতে পারে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, সমকামিতা মানবপ্রকৃতির একটি স্বাভাবিক বৈচিত্র্য, এবং সমাজের সকল মানুষের মতো সমকামী ব্যক্তিরাও সমান অধিকার, সুরক্ষা ও সম্মান পাওয়ার যোগ্য। আমার পরিচিত অনেক বন্ধু ও সংগঠন LGBTQ+ ব্যক্তিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলে, এবং আমি নিজেও মনে করি এই লড়াই মানে মানবাধিকারের লড়াই।

বিশ্বের বহু মানবাধিকার সংস্থা ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে বলেছে—যৌন প্রবৃত্তির ভিত্তিতে বৈষম্য মানবতার পরিপন্থী। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, পৃথিবীর বহু জায়গায় আজও সমকামী ব্যক্তিরা অবমাননা, নিপীড়ন এবং সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।

ধর্মীয় ব্যাখ্যা, সাংস্কৃতিক ভুল ধারণা বা সামাজিক কুসংস্কার—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সমকামীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার জনসমাজে সমকামী ব্যক্তিদের প্রতি বৈরিতা বহু পুরনো। কেউ কেউ ধর্মীয় যুক্তি দেখিয়ে এই বৈষম্যকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আমি মনে করি কোনো ধর্মই মানুষকে হত্যা বা অপমান করার কথা সমর্থন করে না। জীবনের মূল্য, মানবিকতা এবং ন্যায়—প্রতিটি ধর্মেই এগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্বের।

বাংলাদেশেও সমকামীদের ওপর অব্যাহত বৈষম্য, সহিংসতা ও সামাজিক বঞ্চনা আমরা প্রায়ই দেখেছি। কর্মক্ষেত্রে সুযোগ নেই, স্বাস্থ্যসেবায় অপমান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হয়রানি, রাস্তাঘাটে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য—জীবনের প্রতিটি জায়গাতেই তাদের জন্য ন্যূনতম নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়নি। এমনকি উচ্চশিক্ষিত, শহুরে সমাজেও সমকামীদের প্রবলভাবে ‘অন্য’ হিসেবে দেখা হয়, যা মানবাধিকার নীতির সার্বজনীনতাকে অস্বীকার করে।

আমার বিশ্বাস—মানবসমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে আমাদের প্রথমেই শিখতে হবে বৈচিত্র্যকে সম্মান করতে। একজন সমকামী মানুষের ভালোবাসার অধিকার ঠিক ততটাই সত্য, যতটা একজন হেটারোসেক্সুয়ালের। তাঁর মানবিক মর্যাদার অধিকার ঠিক ততটাই অপরিবর্তনীয়, যতটা অন্য সবার।

আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, কোনো ব্যক্তির যৌন প্রবৃত্তির কারণে তাকে ঘৃণা করা, অপমান করা বা হত্যা করা মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধগুলোর একটি। আমরা যদি সত্যিই ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়াতে চাই, তবে প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে—সমকামীসহ সব LGBTQ+ ব্যক্তির জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন।

যদি এই অবস্থানের কারণে আমাকে সামাজিক সমালোচনা সহ্য করতে হয়, আমি করব। যদি ঝুঁকি থাকে, তাও আমি পিছিয়ে যাব না। কারণ, অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলা—এটাই মানবিক দায়িত্ব।

সমকামীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং সহিংসতা বন্ধ করতে রাষ্ট্র, সমাজ, ধর্মীয় নেতৃত্ব ও ব্যক্তিকে এগিয়ে আসতেই হবে। অন্যথায় আমরা কখনোই সেই মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারব না, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজের পরিচয়ে গর্বিতভাবে বাঁচতে পারে।

লিখেছেন-  Alomgir Samsul Hoque

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *